All Public examination Results

সিএনজি চালক মোকছেদুলর সততা








গুলশান-২ থেকে দুই বিদেশি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১৩ নম্বর সড়কে যেতে ভাড়া করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা। ১১ নম্বর সড়কে পৌঁছার পর থামাতে বলেন তারা। চালক মোকছেদুল অটো থামান। এরপর দুই জন ‘আসছি’ সেই যে গেলেন, আর এলেন না।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে। চালক ভাবেন ডলার ভাঙাতে গেছেন। পরে দুপুর গড়িয়ে রাত হয়, আসেন না আর বিদেশিরা। কিন্তু অপেক্ষায় থাকেন মোকছেদ।

সততা

এই অপেক্ষার কারণ ভাড়ার জন্য নয়, দুই বিদেশি অটোরিকশায় একটি ব্যাগ ফেলে গিয়েছিলেন। আর তাদের ছিল দামী ক্যামেরা।

কিন্তু মোকছেদের ধৈর্য ফুরায় এক সময়। তিনি সিএনজি নিয়ে চলে যান গ্যারেজে। আর সেখান থেকে সরাসরি চলে যান বাড্ডা থানায়। ক্যামেরাটি তিনি জমা দেন পুলিশের কাছে। তখন রাত ১০টা।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী ওয়াজেদ আলী  বলেন, ‘হঠাৎ রাত ১০টার দিকে সিএনজি চালক মোকছেদ থানায় এসেন। পরে তার সঙ্গে বিস্তারিত শুনে আমি ক্যামেরাটা থানায় জমা নেই।’

আরও দেখুনঃ

সিএনজি চালকের সততার প্রশংসা করেন পুলিশ কর্মকর্তা। বলেন, ‘ভালো মানুষ আমাদের চারপাশে অনেকেই আছেন। যাঁরা আমাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করেন। মহৎ এই মানুষটিকে আমার পক্ষ অনেক ভালোবাসা জানিয়েছি।’

‘রাজধানীর প্রতিটি থানায় মেসেজ দিয়েছি ক্যামেরাটি বাড্ডায় থানায় আছে। কেউ খোঁজ করলে যেন এখানে চলে আসে।’

মোকছেদুলের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ। বাবা মারা গেছেন সম্প্রতি। এরপরই ঢাকায় আসা। থাকেন রামপুরার মোল্লা টাওয়ারের পাশের উলন বস্তিতে। দুই কন্যা সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার।

চার জনের সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। কিন্তু কখনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না মোকছেদুল। জানান, এই মাসের বাড়ি ভাড়া এখনও দেননি।

‘ভেবেছিলাম গতকাল যা ভাড়া মারব তাই দিয়ে বাড়ি ভাড়া দিব। কিন্তু বিদেশিদের ক্যামেরা ফেরত দেবার জন্য দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কোনো ভাড়া মারতে পারিনি। তাই গতকালও বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়নি।’

এক প্রশ্নে মোকছেদুল বলেন, ‘ওই ক্যামেরা বিক্রি করেও আমি বাড়ি ভাড়া দিতে পারতাম। কিন্তু পরের জিনিসের প্রতি আমার কোনো লোভ নেই; আল্লাহ যেভাবে চালান সেভাবেই চলা উচিত।’

Loading...