All Public examination Results

অ্যানি বার বার তার মেয়ে প্রিয়ন্ময়ীকে দেখতে চাচ্ছে!

‘অ্যানি এখনো জানে না ওর স্বামী প্রিয়ক ও সন্তান তামাররা প্রিয়ন্ময়ী মারা গেছে। এই মুহূর্তে সে বার বার তার মেয়েকে দেখতে চাচ্ছে। অ্যানি বলছে, ওর মেয়ে ওকে ছাড়া কিছু খায় না। আমার মেয়েটা তো না খেয়ে আছে।’

শুক্রবার নেপাল থেকে ফিরে ঢাকা মেডিকেলে অ্যানির স্বামীর বন্ধু ইজাজ আহমেদ মিলন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি কাঠমান্ডুতে মর্গে লাশ দেখে এসেছি। সব পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। অ্যানি এখনো জানে না যে ওর স্বামী-সন্তান মারা গেছে। সে বার বার তার মেয়েকে খুঁজছিল। কারণ ওকে ছাড়া ওর মেয়ে খায় না।’

মিলন বলেন, ‘আমরা তার এমন অবস্থায় বলতে পারছি না যে, তার স্বামী-সন্তান মারা গেছে। আমরা তাকে বলেছি ওর হাজবেন্ড ও বাচ্চা একটু বেশি অসুস্থ। তাই তাদেরকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়েছে। আমরা অ্যানিকে এও বলেছি তাকে বাংলাদেশে একদিন রাখার পর সিঙ্গাপুর পাঠানো হবে।’

এর আগে, উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহত তিন বাংলাদেশি মেহেদী হাসান, সৈয়দা কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও আলিমুন্নাহার অ্যানিকে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি০৭২ ফ্লাইটে বিকেল ৩টা ৩৬ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৪টায় ৮নং গেট দিয়ে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স তাদের নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তিনটি তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয় এবং দ্রুত বার্ন ইউনিটের ক্যাবিন ব্লকে নেওয়া হয়। আহতরা সবাই একই পরিবারের। মেহেদী ও স্বর্ণা স্বামী-স্ত্রী এবং অ্যানি মেহেদীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ দুপুরে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ৩৬ বাংলাদেশির মধ্যে ২৬ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার আহত শেহরিন আহমেদকে নেপাল থেকে ঢাকা আনা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

একই ভাবে গত বুধবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত ডা. রেজওয়ানুল হক শাওনকে নেপাল থেকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।

এছাড়া আহত বাকি ৫ জন নেপালের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে নরভিক হাসপাতালে ইয়াকুব আলী। আর বাকি চারজন কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন- শাহীন ব্যাপারী, মিসেস ইমরানা কবির হাসি, শেখ রাশেদ রুবায়েত ও মো. কবির হোসেন।

Loading...